২১ জানুয়ারি ২০১৪ - ২০:৩০
ইমামত বিষয়ক আলোচনা (পর্ব ০২)

মূল : মোহাম্মাদ সাঈদী মেহ্‌র অনুবাদ : মোঃ ইউনুস আলী গাজী

ইমামত একটি আকিদাগত মৌলিক বিষয় নাকি গৌণ ফিকাহগত বিষয়

ইমামতের বিষয়ে শিয়া ও সুন্নি মনীষীদের মাঝে বিদ্যমান বিভেদের অন্যতম বিষয়টি এ প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে প্রকাশিত হয় যে, ইমামত, ইসলামি আকিদার একটি মৌলিক বিষয় নাকি ইসলামের শাখার অন্তর্ভুক্ত ফেকহী ও শরয়ী একটি বিষয়?

আহলে সুন্নাতের অধিকাংশ [১] আলেম ইমামতের স্বরূপ ও এর সাথে উম্মতের সম্পর্কের বিষয়ে যে আকিদা রাখেন তা হচ্ছে, ইমামত ফুরুয়ে দ্বীনের অন্যতম এবং ফিকহী ও ব্যবহারিক কর্মবিধি’র তালিকাভূক্ত। এর কারণ হচ্ছে তাদের দৃষ্টিতে ইমামতের বিষয়টির মূল কেন্দ্র মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তিকে (=ইমাম) নির্বাচনের দায়িত্ব মুকাল্লাফদের ওপর ওয়াজিব হওয়ার দিকে ফিরে যায়, আর স্পষ্ট যে, কোন আমলের ওয়াজিব বা ফরজ (শরয়ী) হওয়ার আলোচনা ইলমে ফিকহে’র গণ্ডিভূত।

দৃষ্টান্ত স্বরূপ : মাকাসেদ গ্রন্থের ব্যখ্যায় তাফতাজানী বলেছেন : এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, ইমামতের আলোচনাসমূহ ইলমে ফুরু’ (ইলমে ফিকহ)-এর সাথে অধিক সমাঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা এর প্রত্যাবর্তন হচ্ছে এ বিষয়ের প্রতি যে, বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ইমামকে নিযুক্ত করা ওয়াজিবাতে কিফায়ী’র অন্যতম... আর তাই নিঃসন্দেহে এটি শরয়ী ও ব্যবহারিক বিধানের আওতাধীন এবং আকিদাগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। [২]

এ কারণে আহলে সুন্নাতের যে সকল কালাম শাস্ত্রবিদ ইমামতের আলোচনাকে নিজেদের কালাম শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে স্থান দিয়েছেন তারা উল্লেখ করেছেন যে, প্রকৃত অর্থে ইমামতকে তারা কালাম শাস্ত্রের আলোচনা বলে জ্ঞান করেন না বরং এ কাজটি শুধুমাত্র প্রচলিত পদ্ধতির অনুসরণ করতে গিয়ে তারা করেছেন। [৩]

এর বিপরীতে শিয়া মনীষীগণ ইমামতের আলোচনাকে ইসলামি মৌলিক আকিদাসমূহের অন্যতম হিসেবে বিশ্বাস করেন। কেননা এ ঐশী একটি পদ এবং এর জন্য যোগ্য ব্যক্তি (অর্থাৎ ইমাম) স্বয়ং মহান আল্লাহ্ কর্তৃক নির্বাচিত হন, আর তাকে নিয়োগ দান ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণের কোন ভূমিকা নেই। অবশ্য এ কথার অর্থ এই নয় যে, শিয়া সম্প্রদায়, অন্যান্য যে সকল ইসলামি ফির্কাহ ইমামতের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে তাদেরকে কাফের বলে জানে। অন্য ভাষায়, শিয়া মনীষীদের মতে শুধুমাত্র আলী (আ.) ও তার সন্তানদের ইমামতকে মেনে না নেয়া কোন ব্যক্তির ইসলাম হতে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ হয় না।

ইমামতের প্রয়োজনীয়তা ও কায়েদায়ে লুত্ফ (ঐশী অনুগ্রহের নীতি)

শিয়া কালাম শাস্ত্রবিদগণ বিশ্বাস করেন যে, মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ইমাম নির্বাচন একটি জরুরী বিষয়, যার জরুরী হওয়াকে বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভব।[৪] শিয়া কালাম শাস্ত্রের পুরাতন গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দলীল উপস্থাপন করা হয়েছে তা ‘কায়েদায়ে লুতফ’ নামে প্রসিদ্ধ। উক্ত দলীলের সারসংক্ষেপ নিম্নে দেয়া হল :

মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ইমাম নিযুক্ত করণের বিষয়টি একটি অনুগ্রহ (লুত্ফ)। কেননা নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ্ কর্তৃক নিযুক্ত ইমামের ইসলামি সমাজে উপস্থিতি, জনগণকে মহান আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ও গুনাহ হতে বিরত থাকার ক্ষেত্রকেও আরো উত্তমরূপে প্রস্তুত করে। আর সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উম্মতের কল্যাণ ও সফলতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। অপর দিকে বুদ্ধিবৃত্তির ভাষ্য অনুযায়ী (বান্দাদের) প্রতি অনুগ্রহ ও দয়া প্রদর্শন মহান আল্লাহর জন্য আবশ্যক একটি বিষয়, সুতরাং উপরোক্ত দু’টি ভূমিকার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইমামকে নিয়োগ দান করা মহান আল্লাহর জন্য আবশ্যক ও জরুরী একটি বিষয়।[৫]

 

উম্মতের জন্য ইমামের প্রয়োজনীয়তা

কায়েদায়ে লুতফ ছাড়াও অন্য যুক্তির মাধ্যমে, মহান আল্লাহর পক্ষ হতে ইমাম নিযুক্ত করণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিকে প্রমাণ করা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে,